টেকনাফে পাহাড়ে পাচারকারীদের আস্তানায় বিজিবি’র হানা,অস্ত্র-গুলিসহ মানব পাচার চক্রের এক সদস্য আটক,৬জিম্মি উদ্ধার
প্রতিবেদকের নাম :
/ ২১০
বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় :
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন
নিউজটি শেয়ার করে দিন
ফরহাদ আমিন:
টেকনাফে গহীন পাহাড়ে পাচারকারীদের গোপন আস্তানা থেকে মানব পাচার চক্রের সক্রিয় এক সদস্যকে আটক করেছে বিজিবি।এসময় জিম্মি৬জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।মঙ্গলবার(২১অক্টোবর)ভোরে উপজেলার রাজারছড়া করাচিপাড়া গহীন পাহাড়ে এ অভিযান চালানো হয়।
পলাতক আসামীরা হলেন,টেকনাফ করাচীপাড়ার মোঃ হোছনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২৬),তার ভাই রিয়াজ (৩০),একই এলাকার
মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে মোঃহোছন(৪৬),মোঃহোছনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম(৪০),সোনা মিয়ার ছেলে রায়হান(২৪),মোহাম্মদের ছেলে আব্দুল্লাহ(২৫)ও সদর ইউনিয়নের বড়ইতলি এলাকার মাহাতশাহ মাঝি ছেলে সিরাজ (২৬)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ২-ব্যাটালিয়ন(বিজিবি)অধিনায়ক লেঃকর্নেল আশিকুর রহমান।তিনি জানান,মঙ্গলবার(২১অক্টোবর)ভোরে উপজেলার রাজারছড়া করাচিপাড়া এলাকার গহীন পাহাড়ে একটি মানব পাচারকারী চক্র মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে রেখেছে।এমন তথ্যে ঐ এলাকায় বিজিবি অর্ধশতাধিক সদস্যের একটি বিশেষ চিরুনি অভিযান চালায়।প্রায়৬ঘণ্টাব্যাপী এই টানা অভিযানে৬জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয় এবং এক পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়।ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ওয়ান শুটার গান,একটি একনলা বন্দুক,০৫রাউন্ড তাজা গুলি ও এক রাউন্ড তাজা গুলি,দুটি দেশীয় চাকু উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তাদেরকে অপরাধীদের কয়েকজন দোসর তাদেরকে লোভনীয় পারিশ্রমিকের কাজ দেয়া অথবা বিদেশে কর্মসংস্থানের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে এসে মাথাপিছু৪০হাজার টাকার বিনিময়ে এই সশস্ত্র পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়।অপরাধীরা সশস্ত্র প্রহরায় তাদেরকে পাহাড়ে আটকে রেখে গত এক সপ্তাহ ধরে মুক্তিপণ দাবি ভয়ংকর নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত এই সফল অভিযানটির মাধ্যমে টেকনাফের চূড়া থেকে মোট৬জন ভুক্তভোগীকে এই নির্মম পাচারকারীদের কবল থেকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান,উদ্ধারকৃত অস্ত্র,তাজা গুলিসহ আটক আসামির বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এবং মানবতা-দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো পাচারকারীকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।এই অভিযান কেবল আমাদের প্রতিশ্রুতিরই প্রমাণ নয়,বরং এই অঞ্চলে অবৈধ কার্যকলাপ ব্যাহত করার সক্ষমতাও তুলে ধরে।আমরা নিয়মিত এই ধরনের অভিযান চালাব যাতে সীমান্তে সকল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যায়।