টেকনাফে ট্রিপল মার্ডার: অপহরণে গিয়ে উল্টো নিহত তিন ডাকাত, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রতিবেদকের নাম :
/ ১১৩
বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় :
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০২:১১ অপরাহ্ন
নিউজটি শেয়ার করে দিন
টেকনাফ প্রতিনিধি :
টেকনাফের বাহারছড়া গহীন পাহাড়ে সংঘটিত তিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, অপহৃত ভুক্তভোগীদের প্রতিরোধের মুখে প্রাণ হারায় ওই তিন অপহরণকারী।
সূত্র জানায়, গত ১৮ এপ্রিল নিহত মুজিবুর রহমানের স্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পাঁচ ব্যক্তিকে কাজের প্রলোভনে বাহার ছড়া উত্তর শিলখালী পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে আসেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া ‘মোর্শেদ গ্রুপ’ এর সদস্যরা তাদের জিম্মি করে গহীন পাহাড়ে নিয়ে যায়। এসময় একজন কৌশলে পালিয়ে আসলেও বাকিদের অস্ত্রের মুখে পাহাড়ে তুলে নেওয়া হয়।
পরদিন ১৯ এপ্রিল একই কৌশলে আরও তিনজন রোহিঙ্গাকে অপহরণ করা হয় বলে জানা গেছে।
২০ এপ্রিল দিবাগত রাতে মুক্তিপণ আদায়ে অপহৃতদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করে অপহরণকারীরা। একপর্যায়ে ফজরের আজানের পর ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন অপহরণ চক্রের সদস্য মুজিবুর রহমান, নুরুল বশর ও রবিউল আলম।
এ সুযোগে অপহৃতদের একজন হাতের বাঁধন খুলে ফেলতে সক্ষম হন। পরে নিজের ও অন্যদের জীবন রক্ষার্থে ঘুমন্ত অবস্থায় তিন অপহরণকারীর মাথায় কোদাল দিয়ে আঘাত করেন। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ রক্তমাখা একটি কোদাল উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলো- টেকনাফের বাহারছড়া ইউপির উত্তর শিলখালী এলাকার নুরুল কবিরের ছেলে মুজিবুর রহমান, রুহুল আমিনের ছেলে রবিউল আলম ও মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর ওরফে হালানি। স্থানীয়ভাবে চক্রটি ‘মোর্শেদ গ্রুপ’ নামে পরিচিত। জানা গেছে, নিহত মুজিবুর রহমান সম্পর্কে গ্রুপ লিডার মোর্শেদের আপন বড় ভাই আর নিহত রবিউল আলম আপন চাচাতো ভাই।
এদিকে স্থানীয় মুসল্লিদের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে চৌকিদার পাড়া এলাকা দিয়ে কয়েকজনকে বিপর্যস্ত অবস্থায় পাহাড় থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারাই অপহরণকারীর কবল থেকে পালিয়ে আসা ভুক্তভোগী।
ঘটনার পর বাহারছড়া উত্তর শিলখালী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে একজনের ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় আর অন্য দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, নিহতদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানব পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।